১। ১৮ জেলায় ৭০ জন নিহতঃ
বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন রোববার (৩৫ জুলাই / ৪ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৮ জেলায় ৯০ জন নিহত হয়েছেন যার মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জে তিনজন, মাগুরায় চারজন, পাবনায় তিনজন, রংপুরে চারজন, সিরাজগঞ্জে ১১ পুলিশ সদস্যসহ মোট ঊনিশজন, বরিশালে একজন, ভোলায় তিনজন নিহত, বগুড়ায় দুইজন, জয়পুরহাটে একজন, ফেনীতে আটজন, কিশোরগঞ্জে ৩ জন, কুমিল্লার দেবিদ্বারে একজন নরসিংদীতে ছয় জন, সিলেটে দুইজন ও লক্ষ্মীপুরে চারজন, শেরপুরে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন ও ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একজন নিহত হয়েছেন।
২। কারফিউ প্রত্যাখ্যান সমন্বয়কদের ও ‘মার্চ টু ঢাকা’ তে যোগদানের আহবানঃ
চলমান এক দফা আন্দোলনে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করেছে সরকার। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলা এ কারফিউ প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনের সমন্বয়করা। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে তারা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করেছেন এবং দেশের প্রতিটি জেলা শহর থেকে সকল আন্দোলনকারীদের ঢাকা অভিমুখী যাত্রা করে আন্দোলনে যোগদানের আহবান জানিয়েছেন।

৩। আন্দোলনের খবর প্রচার করায় যমুনা টিভি বন্ধঃ
যমুনা টিভির সন্ধ্যা সাতটার বুলেটিন সম্প্রচার করা সম্ভব হয়নি, এবং নিউজরুমের সূত্র জানিয়েছে যে “উপর থেকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হয়েছে।” উপরন্তু, দেশ টিভি, চ্যানেল 24 এবং নিউজ 24-এর নিউজরুম থেকে জানা গেছে যে, তাদের ট্রান্সমিশন মাঝে মাঝে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিভিন্ন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলারও চাপ রয়েছে।

৪। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারঃ
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এর নেতৃত্বে, শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানিসহ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংকট উত্তোরণে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনসহ পাঁচ দফা রূপরেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। প্রস্তাব অনুসারে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে এবং এ সরকারের কাছে শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করবে।
৫। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকের পর সেনাবাহিনীর বক্তব্যঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক জরুরী সভায় সেনাবাহিনীর সাথে ৩৫ জুলাই (অগাস্ট ৪) বৈঠক করেন। সেখানে সেনাবাহিনী প্রধান Chief of Army Staff (CAS) ঘোষণা করেন যে সেনাবাহিনী আর গুলি চালাবে না। তিনি সামাজিক চাপ এবং হয়রানির বোঝা প্রকাশ করেন এছাড়াও CAS উল্লেখ করেন যে, ১৯৭০ সালের পর থেকে আমাদের দেশ এতো বড় অনন্য গণপ্রতিবাদ আর দেখেননি। তিনি সকলকে এসময় ধৈর্য ধরতে হবে। শেষে উল্লেখ করা প্রয়োজন, সেনাপ্রধানকে পুরো সেশনের সময় খুবই নার্ভাস দেখাচ্ছিলো। অনেক কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করতে প্রস্তুত ছিলেন দেখে তিনি তাড়াহুড়ো করে সেশনটি শেষ করেন।
৬। শহীদ মিনারের জনসমুদ্রের স্রোতঃ
জুলাই ৩৪ (অগাস্টের ৩) তারিখে ঢাকার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক জনসমুদ্রের স্রোত দেখা যায় এবং , এই বিক্ষুব্ধ জনতার সকলেই এক দাবি, এক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের এই তীব্রস্রোত মূলত চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে সরকারের পদত্যাগ চাওয়া- এই দাবীর প্রতি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের অকুণ্ঠ সমর্থনকেই প্রকাশ করে।
৭। নিরাপত্তা পরিষদের সাথে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর এবং আন্দোলনকারীদের জঙ্গী উপাধি ও দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহবানঃ
রোববার (৪ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কমিটির সঙ্গে দেশে চলমান আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে সকাল ১১টার দিকে নিরাপত্তাবিষয়ক জাতীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। স্বরাষ্ট্র, তথ্য, আইন, অর্থ, পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ ২৭ সদস্যের কমিটির সব সদস্য; মন্ত্রিপরিষদ সচিব; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ সংশ্লিষ্টরা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ক্ষমতায় থাকার শেষ রক্ষা কৌশল হিসাবে তিনি নিরাপত্তাবাহিনিদের আন্দোলনকারীদের কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ দেন এবং তাদেরকে দুর্বৃত্ত ও জঙ্গী উপাধি দেন।
৮। সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকারঃ
পর আগামীকাল সোমবার থেকে আবারও তিন দিনের (৫,৬ ও ৭ আগস্ট) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আজ রোববার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
তথ্যসুত্রঃ প্রথম আলো, কাল বেলা।
ইংরেজিতে পড়তেঃ https://truthcastbd.com/2024/08/04/the-extended-july-heinous-bloodshed-bangladesh/